গর্ভপাত নয়, ধর্ষকের সঙ্গেই থাকতে হবে ধর্ষিতাকে, নির্দেশ আদালতের

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Feb 16, 2017 05:54 PM IST
গর্ভপাত নয়, ধর্ষকের সঙ্গেই থাকতে হবে ধর্ষিতাকে, নির্দেশ আদালতের
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Feb 16, 2017 05:54 PM IST

#আমেদাবাদ: ধর্ষিতার গর্ভপাতের আবেদনে ধর্ষক ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিল আদালত ৷ একইসঙ্গে হাইকোর্টের নির্দেশ, গর্ভপাত নয়, ধর্ষক ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে থেকে সেখানেই সন্তানের জন্ম দিক এই নিগৃহীতা কিশোরী !

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটাই সত্যি ৷ বছর ১৮-এর এক ধর্ষিতা কিশোরীর গর্ভপাতের জন্য অনুমতি চেয়ে দায়ের করা রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে এমনই রায় দিয়েছে গুজরাত হাইকোর্ট ৷

২৭ সপ্তাহের গর্ভবতী, ‘ধর্ষিতা’ কিশোরীর গর্ভপাতের আবেদনের শুনানি চলছিল গুজরাট হাইকোর্টে ৷ রায়দানের আগে নিজের চেম্বারে সরকারি উচ্চপদস্থ ল আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একান্তে কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেন বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা ৷ তারপরই নয়া মোড় নেয় এই মামলা ৷

হাইকোর্টের এই রায় শুনে প্রথমটা ধাক্কা লাগলেও আসল ঘটনাটি শুনলে আরও চমকে যাবেন ৷ চেম্বারে একান্তে বিচারপতি পার্দিওয়ালাকে ‘নিগৃহীতা’ কিশোরী জানায়, সে কোনও ধর্ষণের শিকার নয় ৷ তাঁর পরিবারের তরফ থেকে যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে, আসলে তাঁর সঙ্গেই বাকি জীবনটা কাটাতে চায় সদ্য আঠারোয় পা দেওয়া এই কিশোরী ৷ শুনে চমকে উঠেন বিচারপতিও ৷ তখন তিনি কিশোরীর থেকে পুরো ঘটনা বিস্তারিতভাবে শুনতে চান ৷

সদ্য সাবালক হওয়া কিশোরী জানায়, এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে একটি ছেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় ৷ চার চোখের মিলনের পর মন দেওয়া-নেওয়া পর্বে বিশেষ সময় লাগেনি ৷ মেয়েটির পরিবার সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় ছেলেটির সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কিশোরী ৷

যেমন ভাবা, তেমনি কাজ ৷ প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় কিশোরী এবং বিয়ে করে ৷ এরপরই মেয়েটির মা থানায় মিসিং কমপ্লেন করেন ৷ তদন্তে নেমে পুলিশ নব বিবাহিত দম্পতিকে খুঁজে বার করে এবং গ্রেফতার করে ছেলেটিকে ৷ তখনই গর্ভবতী ছিল কিশোরী ৷ কিন্তু মেয়েটির বয়স তখন খাতায় কলমে ১৭ বছর আট মাস ৷ ফলে টেকনিক্যালি বিষয়টি ‘নাবালিকা সঙ্গমে ধর্ষণ’-এর আওতায় পড়ে ৷

কিশোরী এও জানায়, পরিবারের চাপে পড়ে গর্ভপাতের জন্য আবেদন করেছে সে ৷ এমনকী ক্রুদ্ধ অভিমানি মেয়েটির আর্জি ছিল, সে তাঁর পরিবারের সঙ্গে থাকতে চায় না ৷ প্রেমিক ও তাঁর পরিবারের সঙ্গেই বাকি জীবন কাটানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য বিচারপতির কাছে আর্জি জানায় ৷

বিচারপতি সব শুনে ‘ধর্ষণ’-এ অভিযুক্ত যুবককেও তাঁর চেম্বারে ডেকে পাঠান ৷ মেয়েটির প্রেমিকও বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালাকে আশ্বস্ত করেন, সে কিশোরীকে সসম্মানে স্ত্রীর মর্যাদায় তাঁর বাড়ি নিয়ে যেতে চায় এবং তাদের সন্তানেরও দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক ৷

নিম্ন আদালতে গর্ভপাতের আবেদন খারিজ হওয়ার পর মামলাটি হাইকোর্টে বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালার বেঞ্চে আসে ৷ মেয়েটির পুরো বয়ান শুনে রায় দেন, গর্ভপাত নয়, মেয়েটি এরপর তাঁর প্রেমিক-স্বামীর বাড়িতে গিয়ে থাকবে এবং সেখানেই জন্ম নেবে তাদের সন্তান ৷ একইসঙ্গে আদালত ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, সমাজ কল্যাণ দফতর ও সরকারি হাসপাতালকে কিশোরীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে ৷

First published: 05:54:53 PM Feb 16, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर