রাজনাথের সঙ্গে আলোচনা অসফল, আন্দোলন জারি থাকল পাহাড়ে

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Aug 04, 2017 07:11 PM IST
রাজনাথের সঙ্গে আলোচনা অসফল, আন্দোলন জারি থাকল পাহাড়ে
Photo : AFP
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Aug 04, 2017 07:11 PM IST

#নয়াদিল্লি: গোর্খাল্যান্ড নিয়ে এখনও চলবে আন্দোলন ৷ দিল্লি থেকে এরকমই জানিয়ে দিল ধর্নায় বসে থাকা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থকরা ৷ শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার শেষে, রাজনাথ সিংয়ের আশ্বাসে খুব একটা খুশি নন তাঁরা ৷ এই কারণেই আপাতত পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আন্দোলনকে চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ৷

খবর অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং জনমুক্তি মোর্চার সদস্যদের জানিয়েছেন, পাহাড়ের মানুষদের কথা ভাবছে সরকার ৷ পাহাড়ের মানুষদের যাতে কোনও রকম অসুবিধায় পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখবে সরকার ৷ গোর্খা জন মুক্তি মোর্চার দাবি-দাওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে ৷

পাহাড় নিয়ে বিজেপির নীরবতায় ক্ষুব্ধ মোর্চা। বসিরহাট নিয়ে বিজেপি সরব হলেও পাহাড় নিয়ে চুপ। বিজেপির এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ মোর্চা, কড়া বিবৃতি দিয়ে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছে। পাহাড়ের আন্দোলনকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে চাপ বাড়াতে তৎপর গোর্খাল্যান্ড মুভমেন্টস কোঅর্ডিনেশন কমিটি।

পাহাড় নিয়ে রাজ্যের কড়া অবস্থান। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির উপর চাপ বাড়িয়ে কৌশলী অবস্থান মোর্চা-সহ পাহাড়ের দলগুলির। তবে সরাসরি রাজ্যভাগকে সমর্থন করলে আখেরে বিজেপির রাজনৈতিক ক্ষতি। তা ভালই জানে গেরুয়া শিবির। তাই বসিরহাট নিয়ে সরব হলেও পাহাড়ে নিয়ে নিরব বিজেপি।

গোর্খাল্যান্ড ছাড়া অন্য সব বিষয়ে আলোচনায় তৈরি কেন্দ্র। দার্জিলিংয়ের সাংসদের মাধ্যমে মোর্চা নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রস্তাব খারিজ করল মোর্চা প্রধান। বিমল গুরুংয়ের একগুঁয়েমি ধৈর্য্য হারাচ্ছে পাহাড়ের অন্য দলও। মোর্চার সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিএনএফ। আন্দোলন নিয়েও মোর্চা যাতে একা সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেও উদ্যোগী বাকিরা। ফলে গোর্খাল্যান্ড মুভমেন্ট নিয়ে উদ্দীপনা অনেকটাই স্থিমিত ৷ ফলে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে সামনে রেখে নয়া নেতার খোঁজে পাহাড় ৷

গোর্খাল্যান্ড সম্ভব নয়। অন্য যে কোনও বিষয়ে মোর্চার সঙ্গে আলোচনায় তৈরি কেন্দ্র। হতে পারে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও। দার্জিলিংয়ের সাংসদ এসএস আলুওয়ালিয়াকে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বার্তা পৌঁছতেই আরও চাপে মোর্চা। অনড় থেকেই মুখরক্ষার চেষ্টা।

পাশাপাশি পাহাড়ে আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নেপালের মাওবাদী-সহ একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্রিয়তা প্রসঙ্গে প্রতিদিন অভিযোগ উঠছে ৷ প্রশ্ন উঠেছে বেশ কয়েকজন নেতাদের ভূমিকা নিয়ে ৷ তাই শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান চাইছে পাহাড়ের বিভিন্ন দল ৷

গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলনে পাহাড়ের বিভিন্ন দল এক সঙ্গে এলেও জিএনএলএফ-জন আন্দোলন পার্টিও চাইছে আলোচনায় দিল্লির মধ্যস্থতা। পার্টির নেতা হরকাবাহাদুর ছেত্রী দিল্লির মধ্যস্থতায় রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক ৷ এর মূল কারণ হচ্ছে যতদিন যাচ্চে সমস্যার কোনও সমাধান হচ্ছে না ৷ এদিকে পাহাড়ে উত্তেজনা অব্যাহত ৷ এরকম পরিস্থিতিতে নানা জঙ্গিগোষ্ঠী তার অপব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷ ফলে দ্রুত সমস্যার সমাধন চাইছে সমস্ত দল ৷

দার্জিলিংয়ের সাংসদ এসএস আলুওয়ালিয়া দার্জিলিং উত্তেজনার ৫০ দিন কেটে যাওয়ার পরও এই বিষয়ে সরাসরি এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হরকাবাহাদুর ছেত্রী ৷ এমনকী তার পদত্যাগেরও দাবি করা হয়েছে ৷

অন্যদিকে এই বিষয়ে রাজ্যও যে দিল্লির হস্তক্ষেপ চাইছে তার ইঙ্গিত দিয়েছে ৷ রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মলয় দে দিল্লিতে পৌঁছেছেন। রয়েছেন ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থও ৷ পাহাড় প্রসঙ্গে নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷

অন্যদিকে মোর্চার একাংশ আলোচনা করতে চাইলেও একাংশ এখনও কড়া আন্দোলনের পক্ষে ৷ অন্যদিকে বনধ পরিস্থিতি চলতে থাকায় এবং গাড়ি যাতায়াত করতে না দেওয়ায় খাদ্য সঙ্কট দেখা গিয়েছে পাহাড়ে ৷ সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে ৷

পর্যটকরাই দার্জিলিংয়ের প্রাণ। বর্ষার দু একটা মাস বাদ দিয়ে সারাবছরই ট্যুরিস্টদের স্বর্গরাজ্য পাহাড়। হোটেল ব্যবসায়ী থেকে খাবার দোকান, স্যুভেনির শপ বা গাড়িচালক পাহাড়ের অর্থনীতি পঁচাত্তর শতাংশই পর্যটননির্ভর। অসাধারণ নিসর্গ, মৌনমুখর কাঞ্চনজঙ্ঘা আর সহজে পৌঁছনোর সুবিধে ব্র্যান্ড দার্জিলিংকে গোটা বিশ্বে পরিচিতি দিয়েছে। বর্তমান পাহাড়ে রাজনৈতিক অশান্তি সেই ব্র্যান্ডকেই ধাক্কা দিয়েছে। মনে করছেন ট্যুর অপারেটররা।

First published: 07:10:55 PM Aug 04, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर