কূটনীতির মাধ্যমেই ডোকালাম ইস্যুর সমাধান চায় ভারত

Jul 14, 2017 08:53 AM IST | Updated on: Jul 14, 2017 08:53 AM IST

#নয়াদিল্লি: চিনের সঙ্গে মোকাবিলায় কূটনীতি ও আলোচনাতেই ভরসা রাখতে চাইছে দিল্লি ৷ ভারতের তরফে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গোপাল বাগলে এমনটাই জানিয়েছেন ৷

দিন কয়েক আগেই জার্মানিতে মুখোমুখি হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং ৷ দু’জনের মধ্যে বার্তালাপও হয় ৷ তবে সেখানে ডোকালাম নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কিনা তা জানায়নি বিদেশ মন্ত্রক ৷ তবে আপাতত এই দুই দেশের টানাপোড়েনে কূটনীতি ও আলোচনার রাস্তা খোলা রাখতে চাইছে ভারত ৷

কূটনীতির মাধ্যমেই ডোকালাম ইস্যুর সমাধান চায় ভারত

বেশ কয়েকদিন ধরেই ভারত ও চিনের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত ৷ ভারত, ভুটান ও চিনের মধ্যবর্তী সীমান্তে ডোকা লা এলাকায় ঢুকে পড়েছে চিনা আর্মি ৷ জানা গিয়েছে, সেখানে রাস্তার তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছে চিন ৷ সেই কাজে দিল্লি ও থিম্পু বাধা দিতেই সমস্যার সূত্রপাত ৷ এরপর থেকেই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে ৷ দুই দেশের তরফেই ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্যভাবে সেনা মোতায়ন বাড়িয়েছে ৷

কিছুদিন আগে চিন স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছিল ডোকলাম থেকে ভারতীয় সেনা না সরলে, অনুপ্রবেশ বন্ধ না হলে কখনই ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে না চিন ৷ তবে চিনের এই হুমকিতে একেবারেই ভিত নয় ভারত ৷ ডোকলামে ক্যাম্প বসানো শুরু করে নয়াদিল্লি বুঝিয়ে দিল, বেজিং-এর চাপের সামনে মাথা নত করা হবে না। চিন সেনা না সরানো পর্যন্ত একতরফা পিছু হঠার প্রশ্নই নেই।

এর পাল্টা চিনের এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ভারত যদি ভুটানে সেনা পাঠিয়ে ডোকা লা বিতর্কে নাক গলাতে পারে তবে পিপলস লিবারেশন আর্মিও পারে কাশ্মীরে ঢুকে পড়তে।

চায়না ওয়েস্ট নর্মাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান স্টাডিজের ডিরেক্টর লং জিংচুন জানিয়েছেন ,ভুটানের অনুরোধে যদি ভারত তাদের এলাকায় প্রবেশ করতে পারে তাহলে পাকিস্তানের অনুরোধে চিনও পারে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে ৷ তিনি আরও জানান ভারতকে যদি ভুটানের তরফে অনুরোধ করা হয়েও থাকে তাহলে সেটা ভুটানের এলাকার ক্ষেত্রে হতে পারে কোনও বির্তকিত এলাকার ক্ষেত্রে তা কখনই প্রযোজ্য নয় ৷ কারণ তা যদি হয় তৃতীয় দেশে হিসেবে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে পারে বেজিং ৷

ভারতকে চাপে রাখতে লং জিংচুন জানিয়েছেন, পশ্চিমী দেশগুলো ভারতকে সমর্থন করবে এটা ভাবলে দিল্লির সবচেয়ে বড় ভুল হবে ৷ এটা হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীন কারণ ওদের চিনের সঙ্গে ব্যবসা করতে হয়।

পাশাপাশি, তিনি বলেন আন্তর্জাতিক সমতা ও অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো উচিৎ নয় বলে জানানো হয়েছে ভারতের তরফে ৷ কিন্তু তারা নিজেরাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিয়মকানুনকে উপেক্ষা করে দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে চিন ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES