শিশুর আঁকা ছবির দেখেই ধর্ষককে সাজা দিলেন বিচারক

Jun 14, 2017 01:28 PM IST | Updated on: Jun 14, 2017 01:28 PM IST

#নয়াদিল্লি: মাত্র আট বছর বয়সেই যৌন নিগ্রহের শিকার শিশুটি ৷ আতঙ্কে গুছিয়ে বলতেও পারছিল না কে অভিযুক্ত ৷ ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট ছাড়া যৌন নির্যাতনের কোনও প্রমাণ ছিল না ৷ কে অভিযুক্ত তা ছোট মেয়েটি পরিষ্কার করে বলতে না পারায় প্রমাণের অভাবে ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছিল মামলা ৷ শেষে অপরাধীর অপরাধের সূত্র ধরায় আদালত কক্ষে বসে ছোট মেয়েটির আঁকা একটি ছবি ৷ তা থেকেই শনাক্ত ধর্ষক ৷ অপরাধী প্রমাণ হওয়ায় সাজা শোনাল আদালত ৷

ছোটবেলাতেই মাকে হারিয়েছিল মেয়েটি ৷ পাঁচ বছর বয়সে বাবাও তাঁকে ফেলে চলে যায় ৷ দিল্লিতে কাকা-কাকীমার বাড়িতেই বড় হচ্ছিল মেয়েটি ৷ দু’বেলা দুটুকরো খাবারের সঙ্গে দিনভর চলত গালিগালাজ, মারধর ৷ সংসারের খরচ বাঁচাতে বছর আটেকের মেয়েটিকে পাশের বাড়ির পরিচারিকার কাজে পাঠিয়ে দেয় তাঁর কাকীমা ৷ এতেই শেষ নয়, নিত্য নিজের কাকার হাতে ধর্ষিত হত অসহায় এই শিশু কন্যা ৷ লাগাতার এই যৌন নিগ্রহ সহ্য করতে না পেরে এক সময় বাড়ি থেকে পালায় মেয়েটি ৷

শিশুর আঁকা ছবির দেখেই ধর্ষককে সাজা দিলেন বিচারক

ঘটনাটি ২০১৪ সালের ৷ ভয়ে, আতঙ্কে কাঁদতে থাকা মেয়েটিকে উদ্ধার করে কিছু সহৃদয় ব্যক্তি ৷ দিল্লির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করালে ধর্ষণের প্রমাণ মেলে ৷ অত্যাচারের ট্রমায় মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বাচ্চাটি ৷ নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের পর ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের কাছে সব কথা খুলে বলে মেয়েটি ৷

দায়ের হয় অভিযোগ ৷ অভিযুক্ত মেয়েটির কাকা আখতার আহমেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ মামলা চলাকালীন আতঙ্কে গুছিয়ে নিজের কথা জানাতে পারছিল না ছোট্ট মেয়েটি ৷ প্রমাণের অভাবে চাপ বাড়াচ্ছিলেন বিরোধী পক্ষের উকিল ৷ বলা হচ্ছিল অভিযুক্তকে ফাঁসাতে শেখানো মিথ্যে কথা বলছে মেয়েটি ৷ কিন্তু সব বিতর্কের অবসান ঘটায় একটি স্কেচ ৷

আদালত কক্ষে বাচ্চা মেয়েটির মন ভোলাতে হাতে দেওয়া হয়েছিল পেন্সিল ও সাদা কাগজ ৷ তা দিয়েই আদালতে বসে ছবি আঁকত মেয়েটি ৷ ছবিতে দেখা যায়, বাড়ির পাশে বেলুন হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি ছোট্ট মেয়ে ৷ পাশেই পড়ে রয়েছে মেয়েটির জামা ৷ ড্রয়িংটি বিচারক এ এস যাদবের নজরে আসার পর তিনি বলেন, ‘এই ছবি থেকেই পরিষ্কার মেয়েটির বাড়ির পরিচিত কেউ দিনের পর দিন তাঁকে বিবস্ত্র করে যৌন নির্যাতন চালিয়েছে ৷ শিশু মনে এই ঘটনা এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে তা বাচ্চাটির মনে গভীর দাগ কেটেছে ৷ কেউ মিথ্যে কথা শেখালে এমন ছবি আঁকতে পারত না শিশুটি ৷’ এই ছবিকেই মেয়েটির সাক্ষ্য মেনে নিয়ে অভিযুক্ত আখতার আহমেদকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড সহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার সাজার রায় শোনায় আদালত ৷ এছাড়াও অভিযুক্তকে আরও তিন লাখ টাকা মেয়েটির ভবিষ্যতের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES