আয় দিনে ২০০ টাকা, অথচ আয়করের নোটিস এল ১০ লক্ষ টাকার

Apr 04, 2017 10:46 AM IST | Updated on: Apr 04, 2017 10:52 AM IST

#আমেদাবাদ: পেশায় মুচি ৷ রাস্তায় এক ধারে বসে নিত্যযাত্রীদের জুতো পালিশ ও সেলাই করে কাটে দিন ৷ আয় সামান্য ৷ কোনওমতে সংসার চালান ৷ অনেক সময় দিন খারাপ থাকলে না খেয়েও থাকতে হয়েছে ৷ অথচ গুজরাটের জুনাগড়ের মনসুখভাইয়ের কাছেই নাকি ১০ লক্ষ টাকার নোটিস পাঠিয়েছে আয়কর বিভাগ ৷ নোটিসে জানানো হয়েছে নোট বাতিলের সময় তার অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ টাকা জমা করা হয়েছে ৷ এই টাকার উৎস কী তা জানতে চাওয়া হয়েছে ৷ সদুত্তর না পেলে কড়াই আনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে ৷ মনসুখভাই অবশ্য পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ৷ জানিয়েছেন তার অ্যাকাউন্টে তিনি টাকা সম্বন্ধে কিছুই জানেন না ৷

শনিবার আয়করের নোটিস পেয়ে চক্ষু চড়ক গাছ ৫৫ বছরের মনসুখভাইয়ের ৷ রাস্তার ফুটপাথে যেখানে বসে লোকের জুতো পালিশ করেন তিনি সেখানে তাকে এই নোটিসটি দেওয়া হয় ৷

আয় দিনে ২০০ টাকা, অথচ আয়করের নোটিস এল ১০ লক্ষ টাকার

মনসুখ জানিয়েছে, ‘পুরো বিষয়ে আমি হতবাক ৷ আমি আমার জীবনে এত টাকা কোনওদিন দেখিনি ৷ প্রতিদিন অনেক কষ্টে মাত্র ২০০ টাকা আয় আমার ৷ সেখান থেকে সংসার চালিয়ে ১০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব ৷ নোটিস পেয়ে আমি এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছি যে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম একবার ৷ ’

গত ২৫ বছর ধরে জুতো পালিশের কাজ করে আসছেন মনসুখ ৷ তিনি জানান, ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় তার একটি জনধন অ্যাকাউন্ট রয়েছে ৷ এলাকার বিধায়ক বিষয়টি জানতে পেরে মনসুখকে সাহায্য করার আশ্বাস জানিয়েছেন ৷ তিনি বলেছেন আইটি বিভাগের কোনও একটি টেকনিক্যাল গোলযোগের কারণে এই পুরো ঘটনাটি ঘটেছে ৷

নোট বাতিলের পর থেকেই বিভিন্ন উপায়ে কালো টাকার কারবারীরা তাদের বেআইনি টাকা বদলের অবলম্বন করেছেন ৷ তেমনই কোনও বেআইনি কাজ এক্ষেত্রে হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES