পাহাড়ে বাহিনী ইস্যুতে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Oct 25, 2017 12:04 PM IST
পাহাড়ে বাহিনী ইস্যুতে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র
Photo : AFP
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Oct 25, 2017 12:04 PM IST

#নয়াদিল্লি: পাহাড়ে বাহিনী ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র ৷ হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রের ৷ দ্রুত শুনানি চেয়ে আবেদন সুপ্রিম কোর্টে ৷ ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাহিনী প্রত্যাহারে স্থগিতাদেশ ৷ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট ৷ সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রের৷  শুক্রবার মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে ৷ কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ‘জম্মু-কাশ্মীরে জরুরি ভিত্তিতে বাহিনী চাই ৷ জরুরি ভিত্তিতে বাহিনী প্রয়োজন উঃ-পূর্বেও ৷ ’

দার্জিলিঙে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। তারপরই এব্যাপারে কৌশলী অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রস্তাব, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কমিটি গড়ুক সব রাজ্য। এব্যাপারে সব রাজ্যকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্র। একইসঙ্গে রাজ্যকে বাহিনী নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতেও রাজ্যকে অনুরোধ কেন্দ্রের। যদিও রাজ্যের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগ ভুয়ো বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

দার্জিলিঙে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কেন্দ্র- রাজ্যের টানাপোড়েন গড়িয়েছে আদালতে। এরপরই এধরণের বিতর্ক এড়াতে কৌশলী অবস্থান নিল কেন্দ্র। বাহিনী নিয়ে সিদ্ধান্তে নিতে রাজ্যগুলোকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। কিভাবে কমিটি গঠন হবে, এমনকি তার কাজের পরিধিও স্থির করে দিয়েছে কেন্দ্র।

রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলার নেতৃত্বে কমিটি

থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্তারা

কমিটির সুপারিশের কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হবে

বাহিনী মোতায়েন ও বাড়তি বাহিনী চাইলে যুক্তি দিতে হবে

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পাঠানো চিঠিতে দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশের পরিপূরক হতে পারে না। নির্দিষ্ট নীতি মেনেই সব রাজ্যে বাহিনী কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তারপরও বিভিন্ন রাজ্য বাহিনী নিয়ে নিত্যনতুন দাবি তোলায় সমস্যা হচ্ছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের।

কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশের পরিপূরক হতে পারে না। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার রক্ষায় বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হতে পারে। সাধারণ আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে একে এক করে দেখা ঠিক নয়

চিঠিতে কোনও রাজ্যের নাম না করলেও দার্জিলিং বিতর্কের জেরেই যে এই যুক্তি, তা স্পষ্ট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই বক্তব্য মানছে না রাজ্য। পাহাড়ে পর্যাপ্ত রাজ্য পুলিশ আছে। এক হাজার পুলিশ আগেই ছিল। এখন অতিরিক্ত আড়াই হাজার পুলিশ আছে। মোট সাড়ে ৩ হাজার পুলিশ আছে পাহাড়ে। পাহাড়ে রাজ্য পুলিশ পর্যাপ্ত নয়। কেন্দ্রের এই অভিযোগ সঠিক নয়।

বসিয়ে না রেখে প্রয়োজনে রিজার্ভ ফোর্সকে আইন-শৃ়ঙ্খলার কাজে লাগাতে রাজ্যকে পরামর্শ কেন্দ্রের। তবে কমিটি সুপারিশ করলেও তা মানা বা না মানার অধিকার থাকছে কেন্দ্রের হাতেই। তাই নতুন করে কমিটি তৈরি করলেই সমস্যা মিটবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পাহাড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিল রাজ্য সরকার। আদালতের নির্দেশের পরও কীভাবে বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন উঠেছিল নবান্নে৷

'হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননা করছে কেন্দ্র ৷ ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্টই ৷ তারপরও বাহিনী প্রত্যাহার কীভাবে?' হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করেছিল রাজ্য ৷

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে নবান্নে সর্বদল বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ৷ বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্য ভাগের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগও আনেন ৷

তিনি বলেছিলেন,‘ পাহাড়ে হিংসাকে বাহবা দেওয়া হচ্ছে ৷ এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক ৷ বাংলার সঙ্গেই এরকম করা হচ্ছে ৷ অন্য রাজ্য থেকে আধা সেনা প্রত্যাহার হয়নি ৷ বিষয়টি নিয়ে আমরা স্তম্ভিত ৷ আমি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছি ৷ রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত ৷ ১৫-এর মধ্যে ৭ কোম্পানি তুলে নিচ্ছে ৷ প্রশাসনিকভাবে এটা খুব খারাপ সিদ্ধান্ত ৷ কী এমন হল, আধা সেনা প্রত্যাহার করা হল ৷ হাইকোর্টের নির্দেশের অবমাননা করা হল ৷ বিজেপির ইন্ধনেই পাহাড়ে অশান্তি চলছে ৷’

মোদি সরকারের পাহাড় থেকে বাহিনী প্রত্যাহারের পিছনে পাহাড়ের বিজেপি সাংসদের মাথা রয়েছে বলে দাবিও করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

First published: 11:52:15 AM Oct 25, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर