দুটি কিডনিই বিকল, ICU-তে শুয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও দ্বাদশে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:May 30, 2017 12:38 PM IST
দুটি কিডনিই বিকল, ICU-তে শুয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও দ্বাদশে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ
Photo : AFP
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:May 30, 2017 12:38 PM IST

#ভোপাল: মেধা, ইচ্ছে আর মনের জোরে অসাধ্য সাধনও অসম্ভব নয় ৷ সেটাই করে দেখিয়েছে মধ্যপ্রদেশের অংশুল গৌতম ৷ জীবনের সঙ্গে বাঁচার লড়াইয়ের মাঝেই চোখ ধাঁধানো রেজাল্ট করেছে এই পড়ুয়া ৷

১৭ বছর বয়সেই বিকল দুই কিডনি ৷ বেঁচে থাকার জন্য প্রতি তৃতীয় দিনেই ডায়ালিসিস নিতে হয় মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীর বাসিন্দা অংশুল গৌতমকে ৷ পড়ার ঘর বলতে হাসপাতালের আইসিইউ ৷ সেখানে শুয়েই সিবিএসই-এর প্রস্তুতি ৷ তার মধ্যেই সিবিএসই দ্বাদশে প্রথম বিভাগে ৬৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করেছে এই মেধাবী ছাত্রী ৷

একটি বিষয়ের জন্য একাধিক শিক্ষক, কোচিং ক্লাস, দিনের শেষে ইন্টারনেট, সহায়িকা বইয়ের নোটস, এক কথায় সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি বহু ভালো স্কুলের পড়ুয়াই ৷ ব্যর্থ হওয়ার চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার রাস্তা বেছে নেওয়া কিংবা পড়াশুনা ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে অনেকের ৷ তাদের জন্য প্রেরণা হতে অংশুল গৌতমের হার না মানা লড়াই ৷

একবছর আগেই অংশুলের জীবনটা আইসিইউ, সূচ, স্যালাইন, অক্সিজেন মাস্কের ঘেরাটোপে বন্দি ছিল না ৷ গত বছরের ডিসেম্বরের হঠাতই একটি ডাক্তারি রিপোর্ট বদলে দেয় গৌতম পরিবারের জীবন ৷ অংশুল গৌতমের বাবা অজয় গৌতম জানালেন, গত বছরের শেষে হঠাতই শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় অংশুলের ৷ অদ্ভুতভাবে ফুলে যাচ্ছিল তাঁর মুখ সহ গোটা শরীর ৷ ডাক্তারের কাছে গেলে জানা যায়, অংশুলের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছে ৷ অপারেশন করা প্রয়োজন ৷ সঙ্গে দরকার নিয়মিত ডায়ালিসিস ৷

এমন অবস্থায় বোর্ডের পরীক্ষায় বসা ছিল প্রায় অসম্ভব ৷ অংশুলের স্কুলের প্রধান শিক্ষকও একবছর ড্রপ করার পরামর্শ দেন ৷ অভিভাবকরা রাজি হলেও সম্মতি ছিল না অংশুলের ৷ চিকিৎসকও প্রথমে অংশুর আর্জি সাফ মানা করে দিলেও মেধাবী এই ছাত্রীর জেদের সামনে হার মানে সকলে ৷ আইসিইউতে শুয়ে এরকম সঙ্কটজনক অবস্থায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছে অংশুল ৷

২৫ জানুয়ারি অপারেশনের পর ৩০ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায় এই বছর ১৭-এর কিশোরি ৷ এখানেই শেষ নয় অপারেশনের পরও প্রতি তৃতীয়দিন ডায়ালিসিস নিতে হত অংশুলকে ৷

সিবিএসই পরীক্ষা শুরু হয় ৯ মার্চ থেকে ৷ এদিকে সার্জারির পর তখনও পুরোপুরি ফিট হয়নি অংশুল ৷ অপারেশনের জন্য তাঁর নিজের পরীক্ষায় লেখার মতো অবস্থা ছিল না ৷ পরীক্ষা দেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব ৷ তবুও অসুস্থতাকে কোনওভাবে নিজের পড়াশুনার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দিতে চায়নি এই পড়ুয়া ৷ অবশেষে বোর্ডের অনুমতিতে রাইটার নিয়ে পরীক্ষা দেয় অংশুল ৷ প্রতিদিন পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে বাকিরা যখন শেষ মুহূর্তের জন্য টেক্সট বইতে চোখ বুলিয়ে নিত, তখন ডায়ালিসিস আর চেকআপ ছিল দ্বাদশ শ্রেণীর এই ছাত্রীর রুটিন ৷

এই সংগ্রাম শেষে অবশেষে ৬৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করে নজির গড়ল এই ছাত্রী ৷ রেজাল্ট দেখার পর অংশুল গৌতমের প্রতিক্রিয়া ছিল, পরীক্ষা তো শুধু জীবনের একটা ছোট দিক ৷ জীবনটা অনেক বড় ৷ বেঁচে থাকার লড়াইটা আরও অনেক বড় ৷

First published: 08:39:36 PM May 29, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर