দুটি কিডনিই বিকল, ICU-তে শুয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও দ্বাদশে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ

May 29, 2017 08:39 PM IST | Updated on: May 30, 2017 12:38 PM IST

#ভোপাল: মেধা, ইচ্ছে আর মনের জোরে অসাধ্য সাধনও অসম্ভব নয় ৷ সেটাই করে দেখিয়েছে মধ্যপ্রদেশের অংশুল গৌতম ৷ জীবনের সঙ্গে বাঁচার লড়াইয়ের মাঝেই চোখ ধাঁধানো রেজাল্ট করেছে এই পড়ুয়া ৷

১৭ বছর বয়সেই বিকল দুই কিডনি ৷ বেঁচে থাকার জন্য প্রতি তৃতীয় দিনেই ডায়ালিসিস নিতে হয় মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীর বাসিন্দা অংশুল গৌতমকে ৷ পড়ার ঘর বলতে হাসপাতালের আইসিইউ ৷ সেখানে শুয়েই সিবিএসই-এর প্রস্তুতি ৷ তার মধ্যেই সিবিএসই দ্বাদশে প্রথম বিভাগে ৬৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করেছে এই মেধাবী ছাত্রী ৷

দুটি কিডনিই বিকল, ICU-তে শুয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও দ্বাদশে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ

একটি বিষয়ের জন্য একাধিক শিক্ষক, কোচিং ক্লাস, দিনের শেষে ইন্টারনেট, সহায়িকা বইয়ের নোটস, এক কথায় সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি বহু ভালো স্কুলের পড়ুয়াই ৷ ব্যর্থ হওয়ার চাপ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার রাস্তা বেছে নেওয়া কিংবা পড়াশুনা ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে অনেকের ৷ তাদের জন্য প্রেরণা হতে অংশুল গৌতমের হার না মানা লড়াই ৷

একবছর আগেই অংশুলের জীবনটা আইসিইউ, সূচ, স্যালাইন, অক্সিজেন মাস্কের ঘেরাটোপে বন্দি ছিল না ৷ গত বছরের ডিসেম্বরের হঠাতই একটি ডাক্তারি রিপোর্ট বদলে দেয় গৌতম পরিবারের জীবন ৷ অংশুল গৌতমের বাবা অজয় গৌতম জানালেন, গত বছরের শেষে হঠাতই শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় অংশুলের ৷ অদ্ভুতভাবে ফুলে যাচ্ছিল তাঁর মুখ সহ গোটা শরীর ৷ ডাক্তারের কাছে গেলে জানা যায়, অংশুলের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছে ৷ অপারেশন করা প্রয়োজন ৷ সঙ্গে দরকার নিয়মিত ডায়ালিসিস ৷

এমন অবস্থায় বোর্ডের পরীক্ষায় বসা ছিল প্রায় অসম্ভব ৷ অংশুলের স্কুলের প্রধান শিক্ষকও একবছর ড্রপ করার পরামর্শ দেন ৷ অভিভাবকরা রাজি হলেও সম্মতি ছিল না অংশুলের ৷ চিকিৎসকও প্রথমে অংশুর আর্জি সাফ মানা করে দিলেও মেধাবী এই ছাত্রীর জেদের সামনে হার মানে সকলে ৷ আইসিইউতে শুয়ে এরকম সঙ্কটজনক অবস্থায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছে অংশুল ৷

২৫ জানুয়ারি অপারেশনের পর ৩০ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায় এই বছর ১৭-এর কিশোরি ৷ এখানেই শেষ নয় অপারেশনের পরও প্রতি তৃতীয়দিন ডায়ালিসিস নিতে হত অংশুলকে ৷

সিবিএসই পরীক্ষা শুরু হয় ৯ মার্চ থেকে ৷ এদিকে সার্জারির পর তখনও পুরোপুরি ফিট হয়নি অংশুল ৷ অপারেশনের জন্য তাঁর নিজের পরীক্ষায় লেখার মতো অবস্থা ছিল না ৷ পরীক্ষা দেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব ৷ তবুও অসুস্থতাকে কোনওভাবে নিজের পড়াশুনার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দিতে চায়নি এই পড়ুয়া ৷ অবশেষে বোর্ডের অনুমতিতে রাইটার নিয়ে পরীক্ষা দেয় অংশুল ৷ প্রতিদিন পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে বাকিরা যখন শেষ মুহূর্তের জন্য টেক্সট বইতে চোখ বুলিয়ে নিত, তখন ডায়ালিসিস আর চেকআপ ছিল দ্বাদশ শ্রেণীর এই ছাত্রীর রুটিন ৷

এই সংগ্রাম শেষে অবশেষে ৬৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করে নজির গড়ল এই ছাত্রী ৷ রেজাল্ট দেখার পর অংশুল গৌতমের প্রতিক্রিয়া ছিল, পরীক্ষা তো শুধু জীবনের একটা ছোট দিক ৷ জীবনটা অনেক বড় ৷ বেঁচে থাকার লড়াইটা আরও অনেক বড় ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES