ভদ্রেশ্বরের জেটি ভাঙার পিছনে ছিল এই কারণ

Apr 26, 2017 07:14 PM IST | Updated on: Apr 26, 2017 07:14 PM IST

#হুগলি: ভদ্রেশ্বরের তেলিনীপাড়ায় গঙ্গার জেটিঘাটের দুর্ঘটনায় গাফিলতির একাধিক অভিযোগ তুললেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, ভদ্রেশ্বর পুরসভার দািয়ত্ব থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের কোনও কাজই হয়নি। তাঁদের দাবি, এই অস্থায়ী জেটি থাকাতেই এই দুর্ঘটনা।

গত বছর ১৪ নভেম্বর ভদ্রেশ্বর পুরসভা জেটি ও ঘাটের দায়িত্ব তুলে দেয় হুগলি জেলা পরিষদের উপর। ভদ্রেশ্বর পুরসভার দাবি, শেষবার তারা ঘাট সংস্কারের কাজ করেছিল ১৬ সেপ্টেম্বর। হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনার নতুন জেটি তৈরির কাজ শুরু করছিল।

ভদ্রেশ্বরের জেটি ভাঙার পিছনে ছিল এই কারণ

নড়বড়ে অস্থায়ী জেটি। হঠাৎ আসা জোয়ারের ধাক্কা সামলাতে পারেনি বাঁশ-কাঠের পলকা জেটি। ছিটকে পড়েন মানুষজন। একটু আগেই গঙ্গা পারাপারের অপেক্ষায় ছিলেন ওঁরা। চোখের নিমেষে হঠাৎ আসা জোয়ারে ভেঙে পড়ে নড়বড়ে জেটি। ছিটকে পড়েন অপেক্ষারত যাত্রীরা। গঙ্গায় তখন শুধুই কালো মাথা। উদ্ধারে প্রথমেই ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধার হয় প্রায় কুড়িজন। তার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়।

উদ্ধারকাজে নামে ডুবুরি, স্পিড বোট, লঞ্চ। হাত লাগায় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। এখনও নিখোঁজ অনেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‍্যাফ নামে হুগলির ভদ্রেশ্বর লাগোয়া তেলিনিপাড়া ঘাটে। মৃতদের পরিবারকে দু লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।

ছুটে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা। চেনা গঙ্গায় তখন শুধুই কালো কালো মাথা। জলের তোড়ে তখন ভেসে যাচ্ছে মানুষ। চিৎকার, চেঁচামেচি। বাঁচার আকুল আর্তি। উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয়রা। যে যেভাবে পারে। ভরা জোয়ারের তোয়াক্কা না করে অনেকে ছোট মাছ ধরার ডিঙি নিয়ে উদ্ধারের কাজে হাত লাগান। উদ্ধার করা যায় প্রায় কুড়িজনকে।

আহতদের চন্দনগর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে নামানো হয় ডুবুরি, লঞ্চ, স্পিডবোট। আসে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সিভিল ডিফেন্স। ভাটা শুরু হলে জোর বাড়ে উদ্ধারকাজে। ঘটনাস্থলে আসেন হুগলির ডিএম , এসপি , জেলা সভাধিপতি -সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

নিখোঁজদের হদিশ জানতে ঘাটের পাশে খোলা হয় অস্থায়ী ক্যাম্প। নিখোঁজ প্রিয়জনদের খোঁজে অনেকেই ভিড় করেন ক্যাম্পে। পরিস্থিতি সামলাতে নামানো হয় র‍্যাফ। জেলা প্রশাসনের তরফে করা হচ্ছে মাইকিং।

জেটি দুর্ঘটনায় উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। মৃতদের পরিবারকে দু লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES