বারুইপুরে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র খুনে ধন্দে পুলিশ

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Jul 25, 2017 07:27 PM IST
বারুইপুরে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র খুনে ধন্দে পুলিশ
Photo : AFP
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Jul 25, 2017 07:27 PM IST

#বারুইপুর: গত বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে কিছু দূরে পিয়ালি নদির চরের পাশে ধান ক্ষেতে পাওয়া গেল অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রের গলার নুলি কাটা অবস্তায় মৃতদেহ উদ্ধার । মৃতর নাম জগদীশ মণ্ডল (১৩) । ঘটনাটি ঘটে বারুইপুরের পিয়ালি ঘোলা ঘাটা এলাকায় ।

এর জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ,মুল অভিযুক্ত প্রতিবেশী অশোক হালদার কে প্রথমে বারুইপুর থানার পুলিশ সুন্দরবন কস্টাল থানার ছোট মোল্লা খালি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ,যার নামে মৃত জগদীশ মণ্ডলের বাবা প্রভাস মণ্ডলের অভিযোগ ছিল ,অশোক হালদার বৃহস্পতিবার সন্ধেতে ছেলেকে মুদি দোকান থেকে ফুটবল খেলার জন্য ভালো দলে সুযোগ করে দেবে বলে নিয়ে যায়, একে একে ধরে জগ্ননাথ সরদার ,মেঘনাদ মৃধা ,সুনিল হালদার ওরফে বাবু হালদার কে । প্রত্যেকেই এই খুনের ঘটনায় জড়িত ,এরা পিয়ালির ঘোলা ঘাটা এলাকারই বাসিন্দা । এদের রবিবার দুপুরে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় বারুইপুর আদালত ।

মৃত ছাত্র জগদীশ মণ্ডলের বাবা প্রভাস মণ্ডল জমি ব্লকারের কাজ করে পাশাপাশি মুদি দোকান চালায় ,কেন এই খুন প্রসঙ্গে প্রভাস মণ্ডল অভিযোগ ,পিয়ালি ঘোলা ঘাটায় ১৯৯৮ সালে ২ বিঘা ৪ ছটাক জমি আমি আর আমার প্রতিবেশী মৃণাল সরকার শশাঙ্ক শেখর মণ্ডলের কাজ থেকে কিনি ,২০১৭ সালের আগে এই জমি আইনি মীমাংসা ও হয়ে যায় ,কিন্তু ওই জমি আগে থেকেই জোর করে দখল করতে চাইছিল গসাবার শম্ভু নগরের চিত্র প্রামানিক ,এই নিয়ে ঝামেলা চলছিল ,তার সাথে যুক্ত হয়েছিল চম্পাহাটির জয়ন্ত মণ্ডল,পিয়ালির সুনিল পালরা । আর এর জেরেই ওরা পরিকল্পনা করে প্রতিবেশী অশোক হালদার কে দিয়ে আমার ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে খুন করে।

৫০ লাখ টাকা চুক্তি হয়েছিলো বাকি আর কজন ছিল এই খুনের পিছনে?

এদিকে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান ,জমি ঘটিত কারন আগে ছিল ,মৃত জগদীশ মণ্ডলের বাবা প্রভাস মণ্ডল জমি দালালির কারণে বেশ কিছু দিন আগে মোটা টাকা পেয়েছিল ,সেই টাকা আদায় করা এর পিছনে কারন ,দুষ্কৃতিদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে জানা যায় ওরা ছাত্র জগদীশ মণ্ডলকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ৫ লক্ষ টাকা তার বাবার কাছে চাইবে বলে ঠিক করেছিল কিন্তু বিষয়টি জানা জানি হয়ে যাওয়ায় ওরা ১৩ বছরের ছেলেকে খুন করে দেয় । এই বিষয়ে পুলিশ তদন্তে আরও জানা যায় ,প্রতিবেশী যুবক অশোক হালদার কে ছেলে টিকে বাড়ি থেকে তুলে আনবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, ধৃত সুনিল পাল অশোক হালদার কে এই কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেবে বলে জানিয়েছিল ,সেই মত বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭ টার পরে অশোক হালদার জগদীশ কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে রাত ৮ টার পরে পিয়ালি নদীর চরের কাছে নিয়ে গিয়ে গলার নুলি কেটে খুন করে ফেলে রেখে রাতেই ছোট মোল্লা খালিতে পালিয়ে যায় সে, এই খুনের ঘটনায় ৫ জন ছিল বলে জানা গিয়েছে , শক্রু বার সকালে পরিবার থানায় অপহরণের অভিযোগ করে । এদিকে এই ঘটনার জেরে রবিবার সকালে পরিবারের লোকজন পাড়া প্রতিবেশীরা বারুইপুর থানায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ দেখায় প্রতিবেশীরা।

অশোক কে খুনের বরাত দিয়েছিলো কে ?

মোট ৫০ লাখ টাকা চুক্তি হয়েছিল এই অপহরণে । কিন্তু কেনো খুন করল অশোক ?

তদেন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জগদীশ কে ভালো দলে ফুটবল খেলার সুযোগ করে দেবে বলে নিয়ে আসে দোকান থেকে,তারপর স্থানীয় ক্লাবের পিছনে সেই লোক আসবে বলে তাকে নিয়ে অপেক্ষা করে, সেই সময় ক্লাবের ছেলেদের কাছে জগদীশের মা খুজাখুজি করছে জগদীশের তাই সেখান থেকে তাকে নিয়ে মাঠের দিকে চলে যায় অশোকের সঙ্গে ছিলো সুনিল, বাকি দুজন প্লেন মতো ঘর খোজার কাজ করছিলো।মাঠের মধ্যে হঠাত ছুরি দিয়ে গলার নলি কেটে খুনের পর দেহ লুকিয়ে রাখে মাঠের জলে, খুনের পর মাথা ঠাণ্ডা রেখে মৃতদেহ জলের উপর ভেসে না উঠে তার জন্য মৃতদেহের কোমরে ইট বেঁধে জলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে যার কারনের শনিবার গভির রাতে দেহ খুজতে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হয় পুলিশকে।

১_ধৃত চারজনের কোথায় বেশ খানিক টা অসংগতি রয়েছে বলেই মনে করছে পুলিশ।

২_ অপহরণের পর মুক্তি পন চেয়ে ফোন করার কথা,প্রয়োজনে হাত কেটে পাঠানোর প্লান ছিল তাদের।

৩_ চিনে ফেলায় খুন ? অশোকে আগে থেকেই চিন্ত জগদীশ তাহলে কি কারন ?

এই খুনের পিছনে আর কিছু রহস্য খোঁজে পুলিশ।

First published: 07:27:04 PM Jul 25, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर