৪ বলে ৯২ রান! এমনই ঘটনা ঘটল বাংলাদেশের ক্রিকেটে

Apr 12, 2017 03:23 PM IST | Updated on: Apr 12, 2017 03:30 PM IST

#ঢাকা: এমনই আজব কাণ্ড ঘটল বাংলাদেশে ৷ এমন স্কোরকার্ড দেখে প্রায় মাথা চুলকানোর অবস্থা ক্যালকুলাসেরও ৷ মাত্র চার বলে হয়েছে ৯২ রান ৷ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজিত দ্বিতীয় বিভাগের সুপার লীগের একটি ম্যাচে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটল ৷

জানলে আরও আশ্চর্য হবেন এমন তাক লাগানো ঘটনা ঘটার পিছনে ব্যাটসম্যানের কোনও প্রশংসনীয় ভূমিকাই ছিল না ৷ যা কাজ করার করেছেন বোলার ৷

৪ বলে ৯২ রান! এমনই ঘটনা ঘটল বাংলাদেশের ক্রিকেটে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে চলছিল দ্বিতীয় বিভাগের সুপার লীগের একটি ম্যাচ ৷ এই ম্যাচে মুখোমুখি হয় লালমাটিয়া ক্লাব ও এক্সিওম ক্রিকেটার্স। ম্যাচে লালমাটিয়া আগে ব্যাটে গিয়ে ৮৮ রানে অলআউট হয়। জবাবে মাত্র ৪ বলে বিনা উইকেটে জয় তুলে নেয় এক্সিওম ক্রিকেটার্স।

লালমাটিয়ার তরফে বল করতে এসে এই পিলে চমকানো কাণ্ডটি করেছেন ওপেনিং বোলার সুজন মাহমুদ ৷ তাঁর ৪ বলের ৯২ রানের মধ্যে ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১২ রান। বাকি ৮০ রান এসেছে ওয়াইড ও নো থেকে। কিন্তু কেন এমন করলেন সুজন? ক্লাব ক্রিকেটের সেকেন্ড ডিভিশনে খেলা বোলারের এমন হাল!

আসল ঘটনা জানা গেল ক্রিকেটারদের থেকে ৷ আসলে ৪ বলে ৯২ রান দিয়ে অখাদ্য আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুজন ৷ মাঠে নামার আগে থেকেই নাকি লালমাটিয়ার ক্রিকেটার ও কর্মকর্তারা জানতেন যে তারা ভালো খেললেও এই ম্যাচ জিততে পারবেন না ৷ পূর্বাভাস যে সত্যি তা ম্যাচ শুরু কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় ৷

ম্যাচের স্কোর বোর্ড ম্যাচের স্কোর বোর্ড

লালমাটিয়ার অভিযোগ টসের সময়ে তাদের কয়েন পর্যন্ত দেখতে দেননি আম্পায়ার ৷ খেলা শুরুর মাত্র ৯ রানের মধ্যেই তাদের ৪ জন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যান । বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই ছিল সন্দেহজনক ৷ স্টাম্পে না থাকা বলে এলবি, দ্বিতীয় ওভারে ব্যাটে না লাগার পরও কটবিহাইন্ড দেন আম্পায়ার ৷ লাইন পেরিয়ে ক্রিজে ঢুকে যাওয়া সত্ত্বেও আম্পায়ারের রান আউটের সিদ্ধান্তে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায় লালমাটিয়া। ৮৮ রানে অল আউট হয়ে যায় তারা ৷

জবাবে এক্সিওম ক্রিকেটার্স ব্যাট করতে নামলে আম্পায়ারের এমন আচরণের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই উল্টোপাল্টা বল করতে শুরু করে লালমাটিয়ার উদ্বোধনী বোলার সুজন মাহমুদ। মাঠে উপস্থিত দর্শকেরা জানিয়েছেন, পেসার সুজন লেগস্টাপের অনেকটা বাইরে দিয়ে বল করতে থাকেন ৷ লেগস্টাম্পের থেকে বলের দূরত্ব এতটাই যে উইকেট কিপারও বলগুলি ধরতে পারছিলেন না ৷ প্রতিটা ওয়াইড বলে বাউন্ডারি হয় ৷ অর্থাৎ বল পিছু যোগ হয় পাঁচ রান ৷ এভাবে গোটা ম্যাচে ১৫ নো বল ও ৬৫ টা ওয়াইড বল করেছেন মাহমুদ ৷ ব্যাটসম্যান করেন ১২ রান ৷

এইভাবেই ৮৮ রানের জবাবে এক্সিওম ক্রিকেটার্সের স্কোর বোর্ডে ৪ বলের পাশে যোগ হয় ৯২ রান ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES