গরু মারলে ১৪ বছর, মানুষ মারলে ২ বছর, সাজা শোনাতে গিয়ে আক্ষেপ বিচারকের !

Jul 16, 2017 07:23 PM IST | Updated on: Jul 16, 2017 07:23 PM IST

#নয়াদিল্লি: ভরা আদালত ৷ বহুদিন ধরে আটকে থাকা এক বিচারের সাজা শোনানোর শেষ তারিখ ৷ বিচারক নিয়মমাফিক সাজাও শোনাতেও শুরু করলেন আইনি কায়দা মেনে ৷ ২০০৮ সালে ৩০ বছরের এক যুবক নিজের দামী গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ নিয়েছিল দুই ব্যক্তির ৷ সেই মামলারই সাজা শোনানোর সময় এসেছিল ৷ কিন্তু গোটা আদালত হতবাক ৷ বিচার শোনাতে গিয়ে দিল্লি আদালতের বিচারক হঠাৎই টেনে নিয়ে আসলেন গো হত্যার সাজার মেয়াদের কথায়৷ গলায় আক্ষেপের সুর ৷ বিচারক সঞ্জীব কুমার স্পষ্টই জানালেন, ‘এ দেশের অদ্ভুত বিচার ৷ গরু মারলে বেশি সাজা, মানুষ মারলে কম !’

আক্ষেপের সুরেই বিচারক বলে গেলেন আরও, বেয়াড়া চালকদের শাস্তি দিতে তেমন কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই এদেশে । অথচ গরু হত্যা করলে অনেক বেশি সাজা ভোগ করতে হবে। গো-হত্যা করলে দেশের একেক রাজ্যে সাজার নিয়ম একেক রকম ৷ কোনও রাজ্যে ৫ বছরের জেল হয়। কোথাও ৭, কোথাও আবার ১৪ বছর। কিন্তু বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে কোনও মানুষকে পিষে দিলে তার সাজা মাত্র ২ বছর। রোজ যাঁরা নিজস্ব কাজে পথে চলাফেরা করছেন, তাঁদের নিরাপত্তা কোথায়?

গরু মারলে ১৪ বছর, মানুষ মারলে ২ বছর, সাজা শোনাতে গিয়ে আক্ষেপ বিচারকের !

বিচারক সঞ্জীব আরও বলেন, দেশের আইন বেপরোয়া চালকদের ক্ষেত্রে কঠোর নয়, অথচ গরুর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি কার্যকরী। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪-এ ধারা অনুযায়ী দুর্ঘটনার শাস্তি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি একটু ব্যাপারটা নজরে আনুন ৷ তবেই না নরেন্দ্র মোদির সবকা সাথ, সবকা বিকাশ স্লোগান তখনই কার্যকর হবে !

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES