চুমুর দশকাহন

Feb 13, 2017 11:35 AM IST | Updated on: Feb 13, 2017 11:35 AM IST

‘ক্ষোভ হয়েছে, লোভ হয়েছে,বাদামী তার ঠোঁট...........’

প্রেয়সীর বাদামী ঠোঁটে নজর আটকে কথা ভুলে যাননি এমন পুরুষ পাওয়া ভার ৷ অথবা একান্তে প্রিয় পুরুষালি ঠোঁট দুটির নিকোটিন স্বাদ পেতে চাননি, এমন নারীও খুঁজতে যাওয়া বোকামি ৷ প্রেমের প্রথম স্পর্শ তো চুমু ৷ কখনও চুমুতে শুরু, কখনও চুমুতেই শেষ ৷ ঠোঁটে কিনারে এসে আটকে থাকা কত কথাই তো আছড়ে পড়ে চুমুর মাধ্যমে ৷ গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁটের আলগা স্পর্শে গলে গিয়েছে কত পাথর মন তার হিসেব নেই ৷ প্যাশনের প্রতিটা ফোঁটা চুঁইয়ে নামে, যখন দুটি পাগল মন একে অপরের ঠোঁটে আশ্রয় খুঁজতে চায় ৷ প্রেমের ভিজে ভিজে প্রথম চুমুর শুরুর মুহূর্ত থেকে শেষের মধ্যে লেখা হয়ে যায় নাবালক থেকে সাবালক হয়ে ওঠার আখ্যান ৷ চুমু নিয়ে এত কচকচানি কারণ আজকের দিনটা অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘চুমু’ অর্থাৎ ‘কিস’ নামে ৷ কিন্তু এই চুড়ান্ত রোমান্টিক ‘চুমু’-এর পিছনে আছে অনেক মজার তথ্য ৷

চুমুর দশকাহন

১) জানেন কি, সাধারণত দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মাথা ডানদিকে হেলিয়ে কিস করেন ৷ বিখ্যাত পেন্টিং,ভাস্কর্য কিংবা সিনেমাতেও আমরা প্রেমিক-প্রেমিকাদেরও এইভাবেই কিস করতে দেখি ৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভে থাকার সময় থেকেই আমরা চুমু খাওয়ার এই পদ্ধতি শিখে আসি ৷ কারণ- মায়ের গর্ভে শিশুদের মাথা ডানদিকে হেলানো থাকে ৷

২) চুমু খাওয়ার সময় মোট ১৪৬ টা মাসল কাজ করে ৷ এর মধ্যে ৩৪টা মুখের মাংসপেশী বাকিটা ভঙ্গিগত ৷

৩) আমাদের চুমু খাওয়ার ভঙ্গি অবিকল ৭৫ থেকে ১২৫ মিলিয়ন বছর আগেকার ইওমাইয়া স্ক্যানসোরিয়া ইঁদুরের মতো ৷ এই ইঁদুররা একে অপরের সঙ্গে নাক ঘষে নিজেদের যৌন অভিব্যক্তিকে প্রকাশ করত ৷

৪) XOXO টাইপ করলেই স্ক্রিনে ফুটে ওঠে কিসিং স্মাইলি ৷ ইতিহাসবিদরা বলেন এর পিছনে আছে মানবসভ্যতার এক পুরোনো গল্প ৷ মধ্যযুগে নিরক্ষর মানুষেরা প্রেমের বার্তা পাটাতে হলে সিগনেচার হিসেবে X সাইনটি ব্যবহার করে তারপর ডকুমেন্টটিকে কিস করে সীল করতেন ৷

৫) ১৪৩৯ সালে ১৬ জুলাই ইংল্যান্ডের তৎকালীন রাজা পঞ্চম হেনরি রোগ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে চুমু-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন ৷ কথিত আছে,এই ঘোষণার পর তার রাজ্যে অরাজকতা তো দেখা গিয়েছিলই সঙ্গে রাজা নিজেও দীর্ঘকাল এরকম নিষেধাজ্ঞা পালন করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ৷

৬) চুমু-র দেশ বলে স্বীকৃত ফ্রান্সে বিংশ শতাব্দীতে ট্রেনে কিস্ করা নিষিদ্ধ ছিল ৷ কারণ- কিস্ করতে গিয়ে ট্রেন থেকে উঠতে-নামতে যাত্রীরা দেরি করতেন ৷ এই কারণে সময়ের চেয়ে দেরিতে চলত ট্রেন ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে জারি হয় নিষেধাজ্ঞা ৷

৭) ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের কারণে বন্ডের চুমুতে চলেছে কাঁচি ৷ টাইটানিক, স্পাইডারম্যান, কাসাব্লাঙ্কা, গন উইথ দ্য উইন্ডের মতো সিনেমায় কাল্ট হয়ে যাওয়া কিসিং সিন উপহার দেওয়া হলিউডেও চলেছিল চুমুর উপর সেন্সরের কালো কাঁচি ৷ ১৯৩০-এ সেন্সর বোর্ডের হেইজ কোড অনুসারে কাপলদের পর্দায় হরাইজন্টাল পজিশনে মানে একে অপরের উপর শুয়ে কিস করায় ছিল নিষেধাজ্ঞা ৷ এমনকী, বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীকেও খাটে পাশাপাশি শুয়ে দেখানোর ক্ষেত্রেও অনেক শর্ত ছিল ৷ খাটে চুমুর দৃশ্য দেখাতে হলেও শর্ত ছিল, কাপলদের মধ্যের যে কোনও একজনের পা মাটিতে থাকতে হবে ৷ ওই কোড অনুযায়ী সর্বাধিক দীর্ঘ চুমুর সিন হতে পারে ৩ সেকেণ্ডের, তার বেশি কোনও মতেই না ৷ এত নিয়ম মেনেই চলত পর্দায় প্যাশনের বিস্ফোরণ ৷

৮) একজন সাধারণ মানুষ তার পুরো জীবনের গড়পড়তা ২০,১৬০ মিনিট অর্থাৎ দু’সপ্তাহ সময় চুমুর পিছনে ব্যয় করেন ৷

৯) চুমু বিজ্ঞানকে বলে Philematology আর যারা Philematology নিয়ে পড়াশুনো করেন তাদের বলে Osculologists ৷ গোদা বাংলায় চুমু বিজ্ঞানী ৷

১০) চুমু বিজ্ঞান বলে মহিলারা নিজের ড্রিম পার্টনার খুঁজে পেতে অন্তত গড়ে ১৫ জন পুরুষকে কিস করেন ৷ কারণ- চুমুতেই লুকিয়ে আছে নারীর হৃদয়ের অন্তিম চাবিকাঠি ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES