সাইকেল

Jan 23, 2017 08:49 PM IST | Updated on: Jan 23, 2017 08:51 PM IST

#কলকাতা: যে সব কম্পানি গাড়ি বানায়, তাদের দাবি এ দেশ নাকি সোনার খনি। এ দেশের লোকের পাশের বাড়ির নীচে নতুন চার চাকা দেখলে চোখ টাটায়। নতুন করে জমা খরচের হিসেব করতে শুরু করে। একটু অফারের লোভ দেখালে আর মাসিক কিস্তির হিসেবটা সহজ করে দিলেই তাকে বেচে দেওয়া যাবে একটা চারচাকা। আর এই করতে করতে এখন সব বড় শহর জুড়ে গাড়ির মেলা। মেলা গাড়ি। অথচ সেই সংখ্যার গ্যারেজই হয়তো নেই। তা সেই সব গাড়ি যখন একসঙ্গে রাস্তায় নামে, তখন ট্র্যাফিক সিগনালে দাঁড়ানো উর্দিধারীর মাথার ঘাম পায়ে পড়বে, সেটাই তো স্বাভাবিক। তার উপর আবার ওই সব গাড়ির ফাঁক গলে কোনওমতে হেলেদুলে প্যাডেলে ভর করে চলে যাওয়া দু চাকা। মানা যায়! না মেনে উপায়? ওই তো গরীবের মসিহা। আলাদিনের চিরাগ এ জিন। সাইকেল।

একশ তিরিশ কোটির বল ভরসা। চেন আর বল বেয়ারিং এ দুফোঁটা মোবিল দেওয়া ছাড়া আর কোনও খরচা নেই। আর যদি পাংচার হয়, তবে টায়ার টিউব সারাতে যতটুকু লাগে। তাও কবারই বা পাংচার হয়! হেঁটে যাওয়ার থেকে জোরে এবং কম খাটুনিতে যাওয়া যায়। চাইলে মাল বওয়া যায়। জনতার এমন বন্ধু আর কে আছে? এই সব কিছু ভেবেই না বিরানব্বই সালে মুলায়মজি নতুন দলের প্রতীক হিসেবে চোখ বুঁজে বলে দিয়েছিলেন -"তবে সাইকেলই হোক সমাজবাদী পার্টির সিম্বল।

সাইকেল

" তবে নেতাজি মুলায়ম একা নন। তার বছর দুয়েক আগে সাইকেলে চেপেই প্রথমবারের জন্য পাক প্রধানমন্ত্রীর তখ্্তে বসেছিলেন নওয়াজ শরিফ। পরের বার অবশ্য সাইকেল ছেড়ে বাঘের পিঠে বসতে বাধ্য হন। আরেক পড়শি দেশ শ্রীলঙ্কায় তো স্বাধীনতার আগে থেকেই অল সেলন তামিল কংগ্রেস বলে একটা দল রয়েছে, যাদের নির্বাচনী প্রতীক সাইকেল। আছে বাংলাদেশেও। জাতীয় পার্টি মঞ্জু। দক্ষিণ ভারতের তেলুগু দেশম পার্টির প্রতীকও সাইকেল। তবে উত্তর প্রদেশের সাইকেলই এখন সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয়।

সেই বিরানব্বই থেকে নিয়মিত ঝাড়পোঁছ করে রাখা মুলায়মের সাইকেলের টায়ার পাংচার হল কি না ঘরের ভিতরেই। টায়ার ফাটার আওয়াজ অবশ্য বড় রাস্তা পেরিয়ে দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সে ই ছেলে যাকে নিজে হাতে সাইকেল চড়া শিখিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, ছেলে লায়েক হলে ছেলের চালানো সাইকেলের ক্যারিয়ারে বসেই দিল্লির মসনদে পাড়ি জমাবেন। তা না হয়ে এ কেমন হল! সটান বাপের মুখের উপর বলে দিলি, -"বুড়ো হয়েছ। ঘরে বসে থাকো। এ সাইকেল এখন আমার। যেখানে খুশি স্ট্যান্ড করবো। যাকে খুশি ক্যারিয়ারে বসাবো। না হয় রাহুল বাবাকে নিয়েই এক চক্কর ঘুরে আসবো। তুমি কিচ্ছুটি বলতে পারবে না। বললে তোমার বন্ধুদের সাইকেলও কেড়ে নেব বলে রাখলাম।" কিন্তু এমন কি হওয়ার ছিল? দিব্যি তো ঘরে ঘরে ল্যাপটপ বিলি করে কাটছিল সংসার। আর অমর সিং বা শিবপালের মতো বন্ধুভাগ্য ক'জনের হয়? ওরাই তো বলেছিল দিল্লি থেকে 'সাইকেল'-এ 'হাত' রাখার মন্ত্রণা আসছে আর বেটা অখিলেশও না কি সদর দরজা খোলাই রেখেছে।

আরেক বন্ধু কিরণময় নন্দও না কি টিপুর তালে তাল মেলাচ্ছে। তা এ ব্যাপারে একটু জানতে চাওয়ায় ছেলের কি হম্বিতম্বি! আরে তোকে সাইকল চালানো শেখালো কে? নেতা জি না থাকলে তো সারাজীবন হাফপ্যাডেলই করে যেতে হতো। সিট এ বসার সুযোগ পেতি? সেই তুই কি না সবার সামনে এই ভাবে.. তা যা করেছিস.. করেছিস। নিজের নাকি আলাদা দল খোলারও প্ল্যান ছিল! বাড়ি বদলাবি বদলা। তা ই বলে আমার সাইকেলটাও নিয়ে যাবি? ঠিক যেন বসন্ত বিলাপ-এর অনুপ কুমার! যাঁদের গ্যারেজে গাড়ির সারি দেখলে চোখে ঝিলমিল লেগে যায়, সেই পরিবারের বাপ ছেলে লড়ছে একটা সাইকেলের জন্য। সে কি বিষম লড়াই।

শেষমেশ সে লড়াই গিয়ে পৌছলো দিল্লিতে। নেতা জি তখন সাইকেল ফিরে পেতে মরিয়া। দেশে আইন বলে কিছু নেই নাকি! আর তা ছাড়া সিনিয়র সিটিজেনদের একটা মর্যাদা তো দিতে হয়। ছেলে না দিক, নির্বাচন কমিশন আছে। উত্তর প্রদেশের নেতা জি হত্যে দিলেন কমিশনের সদরে। তা সেখানেও চিঁড়ে ভিজলো কই! তারাও তো চোখ বুজে বলে দিল,-" মুলায়মজি, আপনার নখ দাঁতে আর সে জোর নেই। হাওয়া বুঝে পাশ থেকে বন্ধুরাও কখন পালিয়ে যাবে টের পাবেন না। আর আপনার ছেলের দিকেই যে বেশি বিধায়ক। ছেলেকেই দিয়ে দিন সাইকেল। " ব্যাস্ হয়ে গেল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে টিপু চড়ল সাইকেলে আর নেতা জি-র হাতে রয়ে গেল পেনসিল।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES